প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ
২০২৬ সালে এসে বিশ্ব অর্থনীতি এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে তেল আমদানি অব্যাহত রাখায় এবার ভারতসহ কয়েকটি বন্ধু দেশের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়ার তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে পরিচিত ভারত, চীন ও ব্রাজিলের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের একটি প্রস্তাবে ট্রাম্প নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করেছে এনডিটিভি।
রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, মার্কিন আইনসভায় শিগগিরই একটি দ্বিদলীয় ‘রাশিয়া স্যাংশন বিল’ উত্থাপন করা হবে। এই বিলের মূল উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতিকে সচল রাখতে যারা সহযোগিতা করছে, তাদের ওপর চরম বাণিজ্যিক চাপ সৃষ্টি করা।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি সাংবাদিকদের বলেন, "ভারত যদি রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধে কার্যকর সহযোগিতা না করে, তবে তাদের পণ্যের ওপর শুল্কের বোঝা আরও বাড়ানো হবে।" যদিও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ভারত কিছুটা তেল আমদানি কমিয়েছে, তবে তা ওয়াশিংটনের প্রত্যাশা অনুযায়ী নয়। উল্লেখ্য যে, গত বছরের আগস্টে রাশিয়ার তেল কেনার দায়ে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যা এখন ১০ গুণ বাড়িয়ে ৫০০ শতাংশ করার পরিকল্পনা চলছে।
বিশ্বের জ্বালানি রাজনীতি এবং বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার লড়াই দীর্ঘদিনের। ১৯০০ সালের শুরুর দিকে যখন তেল বা 'ব্ল্যাক গোল্ড' বিশ্ব অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে, তখন থেকেই মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালিয়েছে পশ্চিমারা।
১৯৭১-১৯৯০: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের (রাশিয়া) ঐতিহাসিক মৈত্রী দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতি বদলে দিয়েছিল। সেই সময় থেকেই ভারতের সামরিক ও জ্বালানি খাতের বড় অংশ রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল।
২০২৪-২০২৬: ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অধীনে বাণিজ্যিক যুদ্ধ আরও তীব্র হয়েছে। ২০২৬ সালের এই সময়ে দাঁড়িয়ে ভারত একদিকে তার জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়ার সস্তা তেলের ওপর নির্ভর করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
ভারত বারবার বলে আসছে যে, তাদের বিশাল জনসংখ্যা ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির জ্বালানি চাহিদা পূরণ করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। সস্তা দামে রাশিয়ার তেল কেনা কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি দেশের মানুষের স্বার্থে একটি বাণিজ্যিক প্রয়োজনীয়তা। তবে ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশে যখন রাজনৈতিক ডামাডোল চলছে, তখন ভারতের এই অর্থনৈতিক সংকট দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রভাবকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।
বিডিএস বুলবুল আহমেদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, ভারতের ওপর মার্কিন শুল্কের এই বিশাল বোঝা চাপানো হলে ভারতীয় রুপির মান আরও কমতে পারে। যেহেতু বাংলাদেশ ভারত থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও কাঁচামাল আমদানি করে, তাই ভারতের এই বাণিজ্যিক সংকট পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। ১৯০০ সাল থেকে চলে আসা বিশ্ব বাণিজ্যের এই রশি টানাটানি ২০২৬ সালে এসে এক নতুন ঠান্ডা যুদ্ধের রূপ নিচ্ছে।
সূত্র: ১. এনডিটিভি ও কালবেলা অনলাইন (৮ জানুয়ারি, ২০২৬)। ২. মার্কিন সিনেট রিপোর্ট ও সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের বিবৃতি। ৩. আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (IEA) এর ২০২৫-২৬ পর্যালোচনা রিপোর্ট।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |